ঝিনাইগাতী আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যসহ নানা অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:০২ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ৪, ২০২০

শেরপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

শেরপুরের ঝিনাইগাতী আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্য, অর্থক্যালেংকারী, সীমাহীন জাল-জালিয়াতি ও অনিয়ম-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার ওইসব দুর্নীতির কারণে দীর্ঘদিন স্ব-স্ব পদে এককভাবে নিয়মিত কর্মরত থেকেও এমপিও থেকে বাদ পড়ছেন ২ নিয়মিত শিক্ষক। অন্যদিকে ওই দুর্নীতির কারণে কলেজে একদিন ক্লাস না নিয়েও অচেনা ও অন্যত্র সরকারী-বেসরকারী চাকরিজীবী শিক্ষকরা তুলছেন বেতন। এছাড়া নিবন্ধনসহ জাল সনদে চাকুরিতে প্রবেশ করা অধ্যক্ষর স্ত্রীসহ কয়েকজন শিক্ষকও অবৈধভাবে ভোগ করছেন একই সুবিধা। অভিযোগ ওঠেছে, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ খলিলুর রহমান গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে অন্ধকারে রেখে ওইসব দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। সম্প্রতি অধ্যক্ষ সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এ্যাডহক কমিটিকেও উল্টেপাল্টে গঠন করেছেন গভর্নিং কমিটি, যাতে রয়েছেন অধ্যরে স্ত্রী, ভগ্নিপতি, ভাগনে ও বেয়াইসহ নিকট আত্মীয়রাই। কেবল তাই নয়, ঘোর জামায়াত সমর্থক ওই অধ্যক্ষ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় ‘শেখের ভাষণ, আইয়ুবের শাসন’ উল্লেখ করে বিতর্কের মুখে ওই কমিটির সদস্যপদ হারালেও অদৃশ্য শক্তির তদবিরে নেওয়া যায়নি তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এ বিষয়ে নতুনযুগ ও অনলাইন চারুবার্তায় খবর প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে কলেজ অধ্যক্ষের ওই সীমাহীন দুর্নীতি নিয়ে এলাকায় এখন ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এত বড় অন্যায় করেও এ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় সবারই প্রশ্ন এ অধ্যক্ষের খুটির জোর কোথায় ? এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আলহাজ্ব কেএম ফজলুল হক চাঁন, সাবেক সভাপতিগণ সহ স্থানীয় সচেতন মহল। অন্যদিকে ওই ঘটনায় ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক এবং শেরপুরের জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলে লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখনও ওইসব দুর্নীতির তদন্তে নেওয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ।জানা যায়, নারী শিক্ষার প্রসারে ২০০২ সালে সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠিত হয় ঝিনাইগাতী মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ। এরপর ২০১২ সালে কলেজটি ডিগ্রি শাখা খোলার অনুমতি লাভ করে। ওই সময় সৃষ্ট পদে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে আবেদন করে সকল পরীায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অজর্ন করে নিয়োগ পেয়ে ডিগ্রি শাখায় ইংরেজী প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন উপজেলার খৈলকুড়া এলাকার পি.আর মুহাম্মদ রাহুল। ওই নিয়োগের পর থেকে তিনি ডিগ্রি শাখায় ইংরেজী বিভাগে একমাত্র প্রভাষক হিসাবে এমপিওবিহীন বিনাবেতনেও নিয়মিত ক্লাস গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে সহায়তাসহ প্রচুর মেধা ও শ্রম দিয়ে শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখেন। তিনি একাধিকবার কলেজ ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধিও ছিলেন। তার অবদানে কলেজের ডিগ্রি পরীায় ইংরেজী বিষয়ে প্রতিবছর প্রায় শতভাগ পাশও নিশ্চিত হয়। যেকারণে শিার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কাছে তিনি একজন জনপ্রিয় ও আদর্শ শিক হিসেবেও ব্যাপক পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি কলেজটি ডিগ্রি পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হলে প্রভাষক পি.আর মুহাম্মদ রাহুলকে সম্প্রতি অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান ডেকে নিয়ে তার কাছে এমপিওর জন্য ১৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন। কিন্তু বৈধভাবে নিয়োগ পেয়ে বিনাবেতনে দীর্ঘ ৮ বছর নিয়মিত শিক্ষকতা করে আসায় তিনি ওই মোটা অংকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে অধ্যক্ষ তাকে জানান যে, ‘ওই পদের জন্য ২০ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য অনেক লোক রয়েছেন’। এছাড়া একই কলেজে একইভাবে ২০১৫ সালে ডিগ্রি শাখায় সৃষ্ট প্রভাষক (দর্শন) পদে যোগদান করেন শেরপুর শহরের দমদমা মহল্লার যমুনা খাতুন। যোগদানের পর থেকে তিনিও দীর্ঘ ৫ বছর যাবত বিনাবেতনে নিয়মিত ক্লাস নেওয়াসহ অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু ডিগ্রি পর্যায়ে এমপিও ঘোষণার পর পরই কলেজ অধ্যক্ষ তাকেও ডেকে নিয়ে এমপিও জন্য ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। তিনি পারিবারিক অবস্থার কারণে ওই টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে বাদ দিয়ে ওই পদে ফুলপুর উপজেলার কাতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত কর্মরত আফরোজা আক্তার নামে এক প্রার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়ে দেন।এরপর দাবি আদায় না হওয়ায় কলেজ অধ্যক্ষ মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রভাষক মুহাম্মদ রাহুলের স্থলে কলেজে একদিনও ক্লাস না নেওয়া দীর্ঘ প্রায় প্রায় ১৭/১৮ বছর যাবত ময়মনসিংহ নগরীতে বসবাস করে টিউশনি ও ও কোচিং পরিচালনা এবং প্রায় ৩ বছর যাবত স্থানীয় মেট্রোপলিটন মডেল স্কুলে কর্মরত আবু হানিফকে এবং প্রভাষক যমুনা খাতুনের স্থলে আফরোজা আক্তারকে ‘ব্যাকডেড দিয়ে নিয়ে এসেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :