দ্বিতীয় দফার চুক্তিও মানতে নারাজ এসএটিভির এমডি সালাহউদ্দিন; কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি ডিইউজে নেতাদের

প্রকাশিত: ১১:৪৭ অপরাহ্ণ , জানুয়ারি ৯, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: শ্রম আইন অনুযায়ী ৮ কর্মীর পাওনা বুঝিয়ে দিতে গত ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ তারিখে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং ডিইউজে নেতাদের সাথে করা দ্বিতীয় দফার চুক্তিও মানতে রাজি নন এসএটিভি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদ। এর আগে গত বছর অক্টোবরে ডিইউজের সাথে করা ১৩ দফা চুক্তিও লঙ্ঘন করেছিলেন তিনি। তাই এবার চুক্তি লঙ্ঘন করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিইউজে নেতারা। বুধবার দুপুরে এসএটিভি কার্যালয়ে ডিইউজের পক্ষ থেকে দেয়া চিঠিতে আগামী ১২ জানুয়ারীর মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ৮ সাংবাদিকের পাওনা পরিশোধে সময় বেধে দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। না মানলে এসএটিভিতে এবার কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। বুধবার ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি খন্দকার মোজাম্মেল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসাইন এসএটিভিতে আসেন। জানা গেছে, ৮ সাংবাদিককে চাকরিচ্যুতির পর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদকে টানা ৩৬ ঘন্টা অবরুদ্ধ এবং এসএটিভির প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় ডিইউজে এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডিইউজের পক্ষ থেকে ৮ কর্মীকে বহালের দাবি জানানো হলেও এসএটিভির এমডি সালাহউদ্দিন আহমেদ তা মানতে রাজি হননি। এসময় বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সাথে এসএটিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদ ৮ জনকে শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী ৫ দিনের মধ্যে ডিইউজের মাধ্যমে ৮ জনের পাওনার চেক হস্তান্তরের কথা থাকলেও এসএটিভি কর্তৃপক্ষ হঠকারিতার আশ্রয় নেয়। তারা ডিইউজেকে পাশ কাটিয়ে এবং চুক্তি লঙ্ঘন করে ৮ কর্মীকে ব্যক্তিগতভাবে মাত্র ৩ মাসের পাওনা বুঝে নিতে বলে। বিষয়টি ডিইউজে নেতারা জানার পর গত ২৯ ডিসেম্বর চুক্তি অনুযায়ী ৮ জনকে শ্রম আইনে পাওনা বুঝিয়ে দিতে এসএটিভি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় তারা। এর জবাবে ১ জানুয়ারি ডিইউজেসহ ৮ জনকে আরেকটি চিঠি প্রদান করে এসএটিভি কর্তৃপক্ষ। ওই চিঠিতে চুক্তি অনুযায়ী শ্রম আইনে পাওনা দেয়ার বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়। এর ফলে বুধবার ডিইউজে নেতারা ৮ কর্মীর পাওনা বুঝিয়ে দিতে আবারো চিঠি নিয়ে এসএটিভিতে আসেন। তারা জানান, এসএটিভি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদ নিজেই চুক্তি করে বারবার তা লঙ্ঘন করছেন। তাই এবার আর ছাড় দেয়া হবে না। চুক্তি অনুযায়ী ৮ কর্মীর পাওনা বুঝিয়ে দেয়া না হলে এবার গতানুগতিক আন্দোলনের পাশাপাশি ব্যতিক্রমী কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে চুক্তি মানতে বাধ্য করা হবে। এদিকে, এসএটিভির মালিক সালাহউদ্দিন আহমেদ এসএটিভিকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি শ্রম আইনের আওতাভুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :